বৈশ্বিক তামাক নিয়ন্ত্রণে সক্রিয় অবদান এর স্বীকৃতি হিসাবে তামাক বিরোধী সার্ক সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন বাংলাদেশ তামাক বিরোধী জোট এর সমন্বয়কারী সাইফুদ্দিন আহমেদ। আবু ধাবীতে চলমান (১৭-২১ মার্চ) ১৬তম তামাক অথবা বিশ্ব স্বাস্থ্য সম্মেলনে এ সম্মাননা প্রদান করা হয়। ভারতের ক্যান্সার এইড সোসাইটি কর্তৃক প্রবর্তিত এ সম্মাননা দক্ষিণ এশিয়ান ৮টি দেশের মধ্যে একজনকে প্রদান করা হয়। বিরল এ সম্মাননা আবু ধাবীর যুক্তরাষ্ট্রের প্রাক্তন সার্জন জেনারেল এর নামাঙ্কৃত ‘লুথার জে টেরি এওয়ার্ড’ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রদান করা হয়। সার্কভূক্ত সবগুলো দেশের মধ্যে তামাক নিয়ন্ত্রণে একমাত্র ব্যক্তি হিসাবে সাইফুদ্দিন আহমেদকে নির্বাচিত করা হয়, যা বাংলাদেশের তামাক নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ এক অর্জন।
ইতোপূর্বে সাইফুদ্দিন আহমেদ ২০০৬ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা কর্তৃক প্রদত্ত ‘ওয়াল্ড নো টোব্যাকো ডে এওয়ার্ড ২০০৬’ লাভ করেন। এছাড়া তাঁর প্রতিষ্ঠিত স্বেচ্ছাসেবী নাগরিক সংগঠন বাংলাদেশ তামাক বিরোধী জোট ২০০১ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার একই সম্মাননা অর্জন করে। বাংলাদেশ তামাক বিরোধী জোট এর কার্যক্রম সমগ্র পৃথিবীতে বেসরকারি/স্বেচ্ছাসেবী পর্যায়ের তামাক বিরোধী কার্যক্রমে একটি মডেল হিসাবে পরিগণিত। বিশ্বব্যাংক ও রিচার্স ফর ইন্টারন্যাশনাল টোব্যাকো কন্ট্রোল (রিটস/আরআইটিসি) এর ২০০৩ সালে প্রকাশিত ‘টোব্যাকো কন্ট্রোল পলিসি: স্ট্রাটেজি, সাকসেস ও সেটব্যাকস” শিরোনামের যৌথ প্রকাশনায় বাংলাদেশ তামাক বিরোধী জোটের সামাজিক আন্দোলনকে অন্যান্য দেশের জন্য নমুনা হিসাবে উপস্থাপন করে।
তামাক নিয়ন্ত্রণে অন্যান্য গবেষকদের সঙ্গে তাঁর যৌথ গবেষণা নিবন্ধ বিভিন্ন জার্নালে প্রকাশিত ও সম্মেলনের প্রকাশনায় অন্তর্ভূক্ত রয়েছে। এর মধ্যে ২০০০ সালে পরিচালিত ‘তামাক ও দরিদ্রতা’ (হাংরি ফর টোব্যাকো) সমগ্র পৃথিবীতে একটি আলোচিত গবেষণা, যা ব্রিটিশ মেডিকেল জার্নাল ‘টোব্যাকো কন্ট্রোল’ এ প্রকাশিত হয়। এ গবেষণার উপর ভিত্তি করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ২০০৪ সালের বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস এর প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করেছিল। এছাড়া ২০০৯ সালে ‘টোব্যাকো এন্ড পোভার্টি’ নামে অপর একটি গবেষণা প্রতিবেদন একই জার্নালে প্রকাশিত হয়েছিল।
সাইফুদ্দিন আহমেদ ১৯৯৯ সাল থেকে বৈশ্বিক তামাক নিয়ন্ত্রণের বিভিন্ন সম্মেলনে বাংলাদেশের বেসরকারি পর্যায়ের প্রতিনিধিত্ব করছেন। যথা: ১৯৯৮ সাল থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত প্রতি ৩ বছর পরপর অনুষ্ঠিত ৫ম থেকে ১০ম এশিয়া-প্যাসিফিক কনফারেন্স অন টোব্যাকো অর হেলথ (এপ্যাক্ট), ২০০০ সাল থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত প্রতি ৩ বছর পরপর পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে অনুষ্ঠিত ১১তম থেকে ১৫তমওয়ার্ল্ড কনফারেন্স অন টোব্যাকো অর হেলথ (ডব্লিউসিটিওএইচ), আন্তর্জাতিক তামাক নিয়ন্ত্রণ চুক্তি এফসিটিসি বিষয়ক সম্মেলন ইন্টারগভর্ণমেন্টাল নেগোশিয়েন বডি (আইএনবি) ও কনফারেন্স অব পার্টি (সিওপি) ইত্যাদি সম্মেলনে অতিথি প্রতিনিধি হিসাবে অংশগ্রহণ করেন। এছাড়া বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার উদ্যোগে বিভিন্ন বিশ্ব স্বাস্থ্য সম্মেলনে, ওয়ার্ল্ড ক্যান্সার কনগ্রেস, ওয়ার্ল্ড লাং কনফারেন্স, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বিভিন্ন আঞ্চলিক, মহাদেশীয় ও বৈশ্বিক সম্মেলনে তিনি অতিথি হিসাবে অংশগ্রহণ করেন।
উল্লেখ্য, ভিসা প্রাপ্তিতে বিলম্ব হওয়ায় সম্মাননা গ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত হতে পারেননি সাইফুদ্দিন আহমেদ। তাঁর পক্ষে বাংলাদেশ তামাক বিরোধী জোট এর আন্তর্জাতিক উপদেষ্টা ও হেলথব্রিজ এর আঞ্চলিক পরিচালক দেবরা ইফরমসন এ সম্মাননা গ্রহণ করেন। আমেরিকান ক্যানাসার সোসাইটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড. জন শেরিফিন ও সিনিয়র সহ-সভাপতি শেলি কাউয়েল এ সম্মাননা তুলে দেন। এ সময় ক্যান্সার এইড সোসাইটি-ইন্ডিয়ার মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা পিযুশ গুপ্ত ও পরিচালক নেহা ত্রেপাতি উপস্থিত ছিলেন।
পেশাগত প্রয়োজনে তিনি গত ১৮ বছরে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, মেক্সিকো, উরুগুয়ে, ব্রাজিল, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, সুইজারল্যান্ড, হাঙ্গেরি, নেদারল্যান্ড, ফিনল্যান্ড, জার্মানি, নরওয়ে, দক্ষিণ আফ্রিকা, কেনিয়া, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, চীন, থাইল্যান্ড, ফিলিপাইন, মায়ানমার, ভারত, নেপাল, শ্রীলংকা, ভুটান, মালদ্বীপ, লাওস, সিঙ্গাপুর, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, তাইওয়ান, হংকং, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ ৪০টির অধিক দেশে ভ্রমণ করেছেন।
Saturday, March 21, 2015
Friday, March 20, 2015
Saifuddin Ahmed is awarded for SAARC Award on Tobcco Control
Saifuddin
Ahmed, coordinator of The Bangladesh Anti Tobacco Alliance (BATA, Bangladesh
Tamak Birodhi Jote) is awarded for "Tobacco Control Award for
Excellence and Leadership in SAARC Countries". This award is
handed-over in the ongoing (17th to
21st March 2015) 16th World Conference on Tobacco or Health
(WCTOH) at Abu Dhabi yesterday evening during Luther J Terry award ceremony
hosted by the American Cancer Society. Tobacco control award for the SAARC
countries provided by Cancer Aid Society India. Saifuddin Ahmed is the only tobacco
control leader among all SAARC countries for SAARC leadership and excellence.
However,
he received many other prestigious awards/scholarships including ‘World No
Tobacco Day Award 2006’ and BATA also received award ‘World No Tobacco Day
Award 2001’ by World Health Organization (WHO). BATA also considered as model
civil society movement against tobacco throughout the world and it is
documented joint publication by the The World Bank and Research for
International Tobacco Control (RITC). The story titled “Building Momentum for
Tobacco Control: The Case of Bangladesh” and book titled Tobacco Control Policy: Strategies, Successes & Setbacks.
Saifuddin Ahmed is involved couple of research on tobacco control perspective. His research articles and abstracts were published peer reviewed journal and various international conferences publication. One of most reputed research on tobacco control, “Hungry for Tobacco: An analysis of the economic impact of tobacco consumption on the poor in Bangladesh” is published in ‘Tobacco Control’ in 2001; it is an international peer-reviewed journal for health professionals and others in tobacco control. To consider this research, World Health Organization (WHO) selected theme (tobacco and poverty: a vicious circle) for World No Tobacco Day 2004. His another joint research “Gainfully Employed? an inquiry into Bidi-dependent livelihood in Bangladesh” is published in ‘Tobacco Control’ in 2011. He is author/co-author of about 15 publications and editor/co-editor of other 20 publications on tobacco control.
Mr.
Saifuddin Ahmed is represented civil society to the various
conferences and events on global tobacco control since 1998. He attended 5
of Asia-Pacific Conference on Tobacco or Health (APACT), held every 3 years
from 2001 to 2013 (from 6th to
10th) and 5 of World Conference on Tobacco or Health (WCTOH) held
every 3 years from 2000 to 2012 (11th to 15th). He represented to
the Inter-governmental Negotiating Body (INB) and Conference of the Party (COP)
of the Framework Convention on Tobacco Control (FCTC). However, he also
attended couple of World Health Assembly (WHA), World Lung Conference (WLC) and
World Cancer Congress (WCC) with his presentations.
It
needs to mention that, due to delay of visa process, Saifuddin Ahmed is not
able to joint award reciving event at Abu Dhabi. On-be-half of Saifuddin Ahmed, Ms.
Debra Efromson, the international advisor of BATA recived this award from Dr.
John Seffrin, CEO of the American Cancer Society and Ms. Sally Cowal, Senior Vice President
Global Program, American Cancer Society. Neha Tripathi Director of Cancer Aid
Society India was present during this event.
Due
to his professional career on last 18 years on global tobacco
control, he traveled more than 40 countries including Australia,
Brazil, Bhutan, Canada, China, Denmark, Finland, France, Germany,
Hongkong, Hungary, India, Indonesia, Japan,
Laos, Kenya, Myanmar, Maldwip, Malaysia, Mexico, Netherlands,
Norway, Philippine, South Africa, South Korea, SriLanka, Singapore,
Thailand, Taiwan, Uruguay, UAE, UK and USA.
সাইফুদ্দিন আহমেদ তামাক বিরোধী র্সাক সম্মাননা লাভ
সবুজপাতা
সাইফুদ্দনি আহমদেরে তামাক বরিোধী র্সাক সম্মাননা লাভবাংলামেইল২৪.কম
সাইফুদ্দনি আহমদেরে তামাক বরিোধী র্সাক সম্মাননা লাভ
আগ্রি নিউজ
সাইফুদ্দনি আহমদেরে তামাক বরিোধী র্সাক সম্মাননা লাভ
তামাক বিরোধী সার্ক সম্মাননা পেলেন সাইফুদ্দিন আহমেদ
তামাক বিরোধী সার্ক সম্মাননা পেলেন সাইফুদ্দিন আহমেদ
কৃষিখবরতামাক বিরোধী সার্ক সম্মাননা পেলেন সাইফুদ্দিন আহমেদ
তামাক বিরোধী সার্ক সম্মাননা পেলেন সাইফুদ্দিন
তামাক বিরোধী সার্ক সম্মাননা পেলেন সাইফুদ্দিন আহমেদ
দ্যা রিপোর্ট২৪.কমসাইফুদ্দনি আহমদেরে তামাক বিরোধী র্সাক সম্মাননা লাভ
হলিডে টাইমস২৪.কম
সাইফুদ্দনি আহমদেরে তামাক বিরোধী র্সাক সম্মাননা লাভ
গ্রীণ ম্যাগাজিন
সাইফুদ্দনি আহমদেরে তামাক বিরোধী র্সাক সম্মাননা লাভ
নিউজ পেইজ২৪.কম
সাইফুদ্দনি আহমদেরে তামাক বিরোধী র্সাক সম্মাননা লাভ
দৈনিক জনতা
সাইফুদ্দনি আহমেদ তামাক বিরোধী র্সাক সম্মাননা লাভ
এসবিডি নিউজ.কম
সাইফুদ্দনি আহমেদ তামাক বিরোধী র্সাক সম্মাননা লাভ
সকালের চট্টগ্রাম
সাইফুদ্দিন আহমেদ তামাক বিরোধী র্সাক সম্মাননা লাভ
Monday, March 16, 2015
বহুল প্রত্যাশিত তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের বিধিমালা পাসে অভিনন্দন
বহুল
প্রত্যাশিত তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের অধীন বিধিমালা পাস হয়েছে। ধূমপান ও
তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন ২০০৫ (সংশোধিত ২৯ এপ্রিল ২০১৩) এর
অধীনে এই বিধিমালা পাস করায় সরকারকে অভিনন্দন জানিয়েছে বাংলাদেশ তামাক
বিরোধী জোট। আজ সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এক অবস্থান কর্মসূচির
মাধ্যমে অভিনন্দন জানানো হয়।
প্রত্যাশা
মাদক বিরোধী সংগঠন এর জেনারেল সেক্রেটারি হেলাল আহমেদ-এর সভাপতিত্বে
জনস্বাস্থ্য উন্নয়নে আন্তর্জাতিক সংগঠন দি ইউনিয়ন-এর কারিগরি পরামর্শক
এডভোকেট সৈয়দ মাহবুবুল আলম, মানবিক এর উপদেষ্টা রফিকুল ইসলাম মিলন, নিরাপদ
ডেভলেপমেন্ট ফাউন্ডেশন এর চেয়ারম্যান ইবনুল সাইদ রানা, জালালাবাদ ফাউন্ডেশন
এর নির্বাহী প্রধান আনাম আহমেদ, নাটাব এর কর্মসূচি ব্যবস্থাপক এ কে এম
খলিল উল্লাহ, টোব্যাকো কন্ট্রোল রিসার্চ সেল (টিসিআরসি) এর সদস্য সচিব ও
ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সহযোগী অধ্যাপক মো. বজলুর রহমান,
ডাব্লিউবিবি ট্রাস্টের সমন্বয়কারী আমিনুল ইসলাম সুজন, একলাব এর সমন্বয়কারী
মো. মাকছুদউল্লাহ প্রমুখ। অবস্থান কর্মসূচি পরিচালনা করেন ডাব্লিউবিবি
ট্রাস্ট এর প্রকল্প কর্মকর্তা জিয়াউর রহমান লিটু।
তামাক
নিয়ন্ত্রণ আইনের বিধিমালা পাস করায় হেলাল আহমেদ সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়ে
বলেন, এখন তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে।
রফিকুল ইসলাম মিলন বলেন, তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন লঙ্ঘণের দায়ে কোম্পানিগুলোকে
শাস্তির আওতায় আনতে হবে। ইবনুল সাঈদ রানা বলেন, মানুষ যেন আইন সম্পর্কে
জানতে পারে, সেজন্য আইনের কার্যকর প্রচারের জন্য গণমাধ্যমকে এগিয়ে আসতে
হবে।
এডভোকেট
সৈয়দ মাহবুবুল আলম বলেন, তামাক নিয়ন্ত্রণে বর্তমান সরকার রাজনৈতিকভাবে
অঙ্গীকারাবদ্ধ। তার প্রতিফলন হিসাবে বিধিমালা পাস হয়েছে। এখন তামাক
নিয়ন্ত্রণ আইনের কার্যকর বাস্তবায়নের মাধ্যমে সরকারের অঙ্গীকারকে তুলে ধরতে
হবে। পাশাপাশি আগামী বছরের মধ্যে যাতে তামাকজাত দ্রব্যের মোড়কে সতর্কবাণী
৯০ শতাংশ করা যায় সেই লক্ষ্যে এখন হতে উদ্যোগ নিতে হবে।
বিধিমালাটি
পাস হওয়ার মাধ্যমে তামাকজাত দ্রব্যের মোড়কে ছবিসহ স্বাস্থ্যসতর্কবানী
প্রদানের সময়সীমা নিশ্চিত হল। এছাড়াও বিধিমালায় কর্তৃত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার
পরিধি বৃদ্ধি, পাবলিক প্লেস ও পরিবহন ধূমপানমুক্ত করার লক্ষ্যে করনীয়
ইত্যাদি বিষয়ে দিক নির্দেশনা রয়েছে। তামাকজাত দ্রব্যের মোড়কে ছবিসহ
সতর্কবাণী প্রদানের বিষয়টি নিয়ে তামাক কোম্পানিগুলোর অপতৎপরচার কারণে
দীর্ঘদিন বিধিমালাটি ঝুলে ছিল। দক্ষিন এশিয়ার অনেক দেশ ৯০ শতাংশ ছবিসহ
স্বাস্থ্য সতর্কবাণী প্রদান করলেও, বাংলাদেশ এখনো ৫০% স্বাস্থ্য সতর্কবানী
প্রদানের বিষয়টি নিশ্চিত করতে পারেনি।
তামাক
নিয়ন্ত্রণ আইনের বিধিমালা পাসে অভিনন্দন জানিয়ে প্রত্যাশা মাদক বিরোধী
সংগঠন, মানবিক, জাতীয় যক্ষা নিরোধ সমিতি (নাটাব), নিরাপদ ডেভলেপমেন্ট
ফাউন্ডেশন, একলাব, ইকো সোসাইটি, জালালাবাদ ফাউন্ডেশন, অরুণোদয়ের তরুণ দল,
আঁচল ট্রাস্ট, স্পন্দন, মাধবিকা, বিসিএইচআরডি, মাস্তুল ফাউন্ডেশন, হিমু
পরিবহন, ডাব্লিউবিবি ট্রাস্ট, বাংলাদেশ তামাক বিরোধী জোট যৌথভাবে আজ সকাল
১১.০০ টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন করে।
Tuesday, February 25, 2014
Mobile Court Fined and arrested for tobacco control law violation
Mobile Court in Dhanmondi, Dhaka, Bangladesh
Fined and arrested for tobacco control law violation
| Add caption |
![]() |
| Add caption |
| Add caption |
![]() |
| Add caption |
![]() |
| Add caption |
Two shops in Dhanmondi were fined a total of 65,000 taka today for violating the tobacco control law by displaying cigarette ads. The manager of one shop was arrested due to his inability to pay the fine. All the advertising and promotional materials were removed from the shops and destroyed. The executive magistrate of Deputy Commissioner (DC) office of Dhaka, Md. Shawakat Ali runs this mobile court.
Zarurirah Shop on Satmasjid Road was fined 50,000 taka for violating the tobacco control law by displaying various ads for Marlboro cigarettes. The manager of Zarurirah Shop was arrested for two months or until he pays the fine. Later on, manager is released after provide fined amount to the government treasury.
In addition, Dynamic Food Corner at Dhanmondi Lake was fined 15,000 taka for displaying cigarette promotional material.
During mobile court operation, Nazmul Hossain Khan, Inspector of Narcotics Department of Dhanmondi area, Shamul Haque and Matiur Rahman, Sub Inspector of Dhanmondi Police Station, Syeda Anonna Rahman, National Advocacy Officer of Work for a Better Bangladesh (WBB) Trust and Mir Abdur Razzak, Executive Director of Social Advancement Forum (SAF) were present.
Saturday, September 7, 2013
তামাক নিয়ন্ত্রন আইন বাস্তবায়নে দ্রুত বিধিমালা প্রণয়ন প্রয়োজন
তামাক নিয়ন্ত্রন আইন বাস্তবায়নে দ্রুত বিধিমালা প্রণয়ন প্রয়োজন
‘‘তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন বাস্তবায়ন, বিধিমালা প্রণয়নে প্রত্যাশা’’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা
দেশে তামাক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম বেগবান করতে সংশোধিত তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৩ বাস্তবায়নে দ্রুত বিধিমালা প্রণয়ন জরুরী। আজ সকাল ১১.০০ টায় ধানমন্ডির বিলিয়া সেন্টারে ডাব্লিউবিবি ট্রাস্ট আয়োজিত “তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন বাস্তবায়ন: বিধিমালা প্রণয়নে প্রত্যাশা” শীর্ষক সেমিনারে আলোচকরা এ দাবী জানান। উক্ত সেমিনারে সম্মানিত আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরা বাহিনীর উপ-মহাপরিচালক (অপারেশন) এ. কে. এম মিজানুর রহমান, বিশেষ অতিথি ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-কমিশনার (গোয়েন্দা দণি) কৃষ্ণপদ রায়, বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) এম. আব্দুর সালাম, বাংলাদেশ ডাক বিভাগের ডিরেক্টর ট্রেনিং এন্ড রিসার্চ অফিসার প্রশান্ত কুমার মন্ডল, র্যাপিড একশান ব্যাটেলিয়ান (র্যাব) এর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ আল আমীন। সভাপতিত্ব করেন ডাব্লিউবিবি ট্রাস্ট্রের পরিচালক (প্রোগ্রাম এ্যান্ড প্ল্যান) এডভোকেট সৈয়দ মাহবুবুল আলম। ডাব্লিউবিবি ট্রাস্টের প্রোজেক্ট কো-অর্ডিনেটর আমিনুল ইসলাম সুজন এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ডাব্লিউবিবি ট্রাস্টের ন্যাশনাল এডভোকেসি অফিসার সৈয়দা অনন্যা রহমান।
এম.আব্দুর সালাম বলেন, তামাক শুধু স্বাস্থ্যের তি করেনা তার সাথে সম্পদেরও তি করে। তাই আমাদের দেশের জনস্বাস্থ্য ও সম্পদ রার্থে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন বাস্তবায়নে স্থানীয় পর্যায়ের জেলা-উপজেলা টাস্কফোর্স সংক্রান্ত কার্যক্রম পরিচালনা, আইন মনিটরিং, প্রয়োগ, বাস্তবায়ন, অভিযোগ গ্রহণ ও জনসচেতনতা, গবেষণাসহ অন্যান্য কার্যক্রম বিধি দ্বারা সুনির্দিষ্ট করা জরুরী।
এডভোকেট সৈয়দ মাহবুবুল আলম বলেন, আইন বাস্তবায়ন কার্যক্রম গতিশীলকরণে এ আইনের বিধিমালায় পাবলিক প্লেস এবং পাবলিক পরিবহনের মালিক, তত্ত্বাবধায়ক বা নিয়ন্ত্রণকারী ব্যক্তির মতা ও কার্যক্রম নির্দিষ্ট থাকা জরুরী। নিয়মিত তদারকি ও মনিটরিং কার্যক্রম পরিচালনা প্রয়োজনবোধে এক/একাধিক দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা চিহ্নিত করা প্রয়োজন।
কৃষ্ণপদ রায় বলেন, তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের সংশোধনের প্রেেিত ধূমপানমুক্ত স্থানের পরিধি বৃদ্ধি পেয়েছে। আইনের প্রয়োগ নিশ্চিতে সীমিত সংখ্যক কর্মকর্তার দ্বারা আইন বাস্তবায়নে উদ্যোগ গ্রহণ সম্ভব নয়। বাংলাদেশ পুলিশ জনগণের জান মাল রায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। জনস্বাস্থ্য রায় তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন বাস্তবায়নে পুলিশকে ক্ষমতায়ন করে আইনটির প্রয়োগ আরো জোড়ালো করা সম্ভব।
মোহাম্মদ আল আমীন বলেন, অধিকাংশ মাদকাসক্ত ব্যক্তি তামাক গ্রহণের মাধ্যমে নেশা জগতে পা রাখে। মাদকের ভয়াবহতা রুখতে তামাক নিয়ন্ত্রণ জরুরি। তামাক নিয়ন্ত্রণে শুধু মাত্র আইন হলেই চলবে না। আইন বাস্তবায়ন প্রক্রিয়াকে সহজ করতে দ্রুত আইনের ব্যাখ্যা সম্বলিত বিধিমালা প্রণয়ন জরুরি। দ্রুত বিধিমালা প্রণয়নের পাশাপাশি তামাক নিয়ন্ত্রণ মনিটরিং সেলকে আরো শক্তিশালী করতে হবে।
এ. কে.এম মিজানুর রহমান বলেন, তামাক ও তামাকজাত দ্রব্যের কারণে প্রতিবছর পৃথিবীতে ৬০ ল মানুষ মারা যায়। এই মৃত্যু হ্রাসে তামাক চাষ বন্ধ ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনটি সঠিকভাবে বাস্তবায়নে এবং সচেতনতা বৃদ্ধিতে তরুণদের এগিয়ে আসতে হবে হবে। দেশে তামাক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম জোরদার করতে সরকারকে এ আইন বাস্তবায়নে সক্রিয়ভাবে সহযোগিতা করা আমাদের সকলের কর্তব্য।
প্রশান্ত কুমার মন্ডল, তামাক নিয়ন্ত্রণে আমাদের সকলকে ভূমিকা নিতে হবে। আইন প্রয়োগ সংস্থার পাশাপশি অভিভাবকদের সচেতন হওয়া প্রয়োজন। তামাক নিয়ন্ত্রণে পরিবার থেকেই প্রথম আইন বাস্তবায়নে এগিয়ে আসতে হবে।
মুক্ত আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন, প্রত্যাশা মাদক বিরোধী সংগঠনের সেক্রেটারী জেনারেল হেলাল আহমেদ, নিরাপদ ডেভেলপমেন্ট এর নির্বাহী পরিচালক ইবনুল সাইদ রানা, গ্রীণ মাইন্ড সোসাইটির চেয়ারম্যান মো. আমির হাসান, শিাবিদ অধ্য কামাল আতাউর রহমান, পবা নির্বাহী কমিটির সদস্য একে এম সিরাজুল ইসলাম, সিটিএফকে এর প্রোগ্রাম ম্যানেজার ইভা নাজনীন, নারী গ্রন্থ প্রবর্তনার মাহমুদা বেগম এবং ইসি বাংলাদেশ এর কর্মকর্তা এমদাদুল হক প্রমুখ।
Wednesday, August 28, 2013
তামাকের যে ভয়াবহতা
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গবেষণায় বলা হয়েছে, বিড়ি-সিগারেটসহ তামাকজাত দ্রব্যে নিকোটিন, ডিডিটি, কার্বন মনোক্সাইড, টার বা আলকাত্রা, আর্সেনিক, মিথানল, ন্যাপথালিন, বেনজোপাইরিন, সায়ানাইড, এমোনিয়া, অক্সিডেন্টসহ ৪০০০এর বেশী ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থ রয়েছে। যার মধ্যে ৬০টি সরাসরি ক্যান্সার সৃষ্টির সাথে জড়িত। তামাক সেবন ও ধূমপানে বিভিন্ন প্রকারের ক্ষতি হয়ে থাকে। বাংলাদেশে ধূমপানসহ তামাকজাত দ্রব্যের নেতিবাচক দিক সম্পর্কে খুব সংক্ষেপে আলোকপাত করা হলো। নিম্নে তার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ কিছু আলোচিত হলো।
তামাকের ভয়াবহতা এবং বাংলাদেশ
২০০৯ সালে গ্লোবাল এডাল্ট টোব্যাকো সার্ভে (গ্যাটস) এর পরিসংখ্যান মতে, বাংলাদেশে ৪৩.৩% মানুষ (পুরুষ ও নারী) তামাক (বিড়ি-সিগারেট, জর্দা, গুল ইত্যাদি) ব্যবহার করে। এতে দেখা যায়, দরিদ্র (৫৫.৬%) ও নিরক্ষরদের (৬২.৯%) মধ্যে তামাক সেবনের হার হার বেশি। এ বিপুলসংখ্যক মানুষের ধূমপান ও তামাক সেবনের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে দেশের অর্থনীতি, পরিবেশ, জনস্বাস্থ্য ও উন্নয়নের উপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
এছাড়া খাদ্যেও জমিতে তামাক চাষ খাদ্য নিরাপত্তা, পরিবেশ, জনস্বাস্থ্যকে মারাত্মক হুমকির মুখে ফেলছে। বিড়ি কারখানা নারী, শিশুসহ শ্রমিকদেও মারাত্মক রকম কম মজুরি দিয়ে কাজ করিয়ে নিচ্ছে। যে কারণে তাদের দরিদ্রতা দূর হচ্ছে না। বৃহত্তর রংপুর অঞ্চলে এত তামাক চাষ হয়, অসংখ্য বিড়ি কারখানা রয়েছে তারপর সে এলাকার মানুষ ঠিকমত খেতে পায় না। মঙ্গার প্রভাব সেখানে ব্যাপক। এসব দিক বিবেচনা করে তামাকের ব্যবহার ও তামাক চাষ নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি।
তামাকের যে ভয়াবহতা বিদ্যমান তা খুব সংক্ষেপে এখানে তুলে ধরা হল। যেমন:
- ২০০৪ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এক গবেষণায় বলা হয়, তামাক সেবন ও ধূমপানের কারণে দেশে ১২ লক্ষ মানুষ ৮টি প্রধান রোগে (ক্যান্সার, যক্ষা, ডায়াবেটিস, হাঁপানি, হৃদরোগ, বার্জাজ ডিজিজ ইত্যাদি) আক্রান্ত হচ্ছে। যার মধ্যে বছরে ৫৭,০০০ হাজার মানুষ মৃত্যুবরণ করছে এবং ৩,৮২,০০০ মানুষ পঙ্গত্ব বরণ করছে। যদিও সে সময়ে তামাক ব্যবহারকারীর হার ও সংখ্যা-দুটোই কম ছিল। তবু সে পরিসংখ্যান অনুযায়ীও বিপুল সংখ্যক মানুষের মধ্যে যদি ২৫ ভাগ মানুষও সরকারী স্বাস্থ্য কেন্দ্র থেকে সেবা গ্রহণ করে তবে যে ব্যয় হয় তা তামাক খাত থেকে প্রাপ্ত রাজস্বেও চেয়ে অনেক অনেক বেশি।
- ২০০৪ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার উপরিল্লিখিত গবেষণার আলোকে ২০০৭ সালে অধ্যাপক আবুল বারাকাত এর নেতৃত্বে এইচডিআরসি’র গবেষণায় বলা হয়েছে, বাংলাদেশে সরকার সকল প্রকার তামাক থেকে রাজস্ব পায় ৫,০০০ কোটি টাকা। কিন্তু তামাকজনিত রোগে আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে শুধু ২৫ ভাগ রোগীর চিকিৎসাবাবদ সরকারী ব্যয় ১১,০০০ কোটি টাকা। যেখানে ঘাটতি ৬,০০০ কোটি টাকা। এছাড়া ধূমপান ও তামাকজনিত রোগে আক্রান্তদের ব্যক্তিগত আর্থিক ক্ষতিও অনেক।
- তামাক সেবীদের তামাকের জন্য ব্যয় করা অর্থের ৬৯ভাগ যদি খাদ্যের পেছনে ব্যয় করা হয় তবে অপুষ্টির কারণে যেসব শিশু অকালে মারা যায় তার ৫০ভাগ শিশুকে বাঁচানো সম্ভব।
- ২০০৯ সালে ডাব্লিউবিবি ট্রাস্ট এর এক গবেষণায় বলা হয়েছে, দরিদ্র বিড়ি সেবনকারীরা প্রতিদিন গড়ে ৮ কোটি টাকা এবং প্রতিবছর প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করে। এ বিপুল পরিমাণ অর্থ দিয়ে দেশে ৭২ লাখ অপুষ্ট শিশুর প্রত্যেককে এক গ্লাস দুধ অথবা ৫৩ লাখ অপুষ্ট শিশুর প্রত্যেককে এক গ্লাস দুধ ও একটি ডিম দেয়া সম্ভব, যা অপুষ্টিজনিত মৃত্যু নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখবে।
- তামাক নিয়ন্ত্রণ করলে অনেক লোক চাকরি হারাবেÑতামাক কোম্পানিগুলোর এ বক্তব্য সঠিক নয়। কারণ কেউ যদি তামাক সেবন বন্ধ করে তবে ঐ অর্থ দিয়ে তিনি অন্য কোন পণ্য ক্রয় করবেন এবং ঐ পণ্যের চাহিদা বৃদ্ধি পাবে। চাহিদা বৃদ্ধি পেলে উৎপাদন বাড়াতে হবে, উৎপাদন বাড়াতে হলে অনেক শ্রমিক দরকার হবে। তাছাড়া বাজারজাত করণেও অনেক কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি পাবে। বিশ্ব ব্যাংক এর এক গবেষণায় বলা হয়, বাংলাদেশ যদি কার্যকরভাবে তামাক নিয়ন্ত্রণ করতে পারে তবে ১৮.৭ভাগ কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি পাবে।
- প্রতি কেজি তামাক শুকানোর জন্য ২৫কেজি কাঠ পোড়াতে হয়। এতে ধ্বংস হচ্ছে বনজ সম্পদ ফলে ভারসাম্য হারাচ্ছে পরিবেশ।
- তামাক পাতা একটি চুল্লির মধ্যে আগুনের তাপের সাহায্যে শুকানো হয়। এতে বাংলাদেশের বনজ সম্পদ ধবংশ হয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশে প্রতিবছর যত পরিমাণ বৃক্ষ নিধন হয়, তার ৩০ভাগ ব্যবহার শুধু তামাক পাতা শুকানোর কাজে। বিশেষ করে পার্বত্য অঞ্চলে ব্যাপক হারে বৃক্ষনিধন হচ্ছে। এভাবে বৃক্ষনিধন চলতে থাকলে আগামী ১০ বছর পর পার্বত্য অঞ্চলে কোন গাছ থাকবে না বলে পরিবেশবিদরা আশঙ্কা করছেন।
- তামাক চাষ আমাদের পরিবেশ এর জন্য ব্যাপক ক্ষতিকর। তামাক চাষ এর ফলে কৃষি জমি দখল হচ্ছে, সেখানে তামাক চাষ হচ্ছে। হুমকির মুখে পড়ছে খাদ্য নিরাপত্তা। খাদ্য নিরাপত্তার স্বার্থে আমাদের তামাক চাষ নিয়ন্ত্রণ করা দরকার। সারাদেশে যে জমিতে তামাক চাষ হচ্ছে সে জমিতে তামাক চাষের পরিবর্তে খাদ্য চাষ করা হলে তবে দেশে কোন খাদ্য ঘাটতি থাকবে না।
- তামাক গাছ মাটি থেকে অধিক পরিমাণ পানি শোষন করে এতে জমির উর্বরতা শক্তি কমে যায়। যেজন্য তামাক উৎপাদিত জমিতে অন্য কোন শস্য উৎপাদিত হয়না।
ক্স তামাকজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে অনেকে অকালে মৃত্যুবরণ করে। এতে করে ঐ পরিবার আর্থিক ক্ষতিসহ নানা সমস্যায় আক্রান্ত হয়।
স্বাস্থ্যগত ক্ষতি:
ধূমপানজনিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে প্রতি ৬.৪ সেকেন্ডে ১ জন এবং প্রতিবছর ৫৪ লক্ষ মানুষ মারা যাচ্ছে। উন্নয়নশীল দেশসমূহে যেভাবে ধূমপানের প্রবণতা ১.১হারে কমছে, সেখানে আমাদের মত উন্নয়নশীল দেশগুলোতে ধূমপানের প্রবণতা ২.১ হারে বাড়ছে।
- কার্বন মনোক্সাইড আমাদের দৃষ্টিশক্তি ও শ্রবণশক্তিকে অবদমিত করে এবং আমাদের মেধার পরিধি কমিয়ে দেয়।
- নিকোটিন আসক্তি সৃষ্টিকারক উপাদান এবং আসক্তি সৃষ্টির দিক থেকে তা হিরোইন, কোকেন, মারিজুয়ানা, এলকোহল এর চাইতেও বেশী শক্তিশালী। এছাড়া নিকোটিন আমাদের দেহের রক্ত সংবহনতন্ত্রের মারত্মক ক্ষতি ডেকে আনতে পারে, ফলে হৃদরোগ, স্ট্রোক, ক্যান্সার, হাঁপানী, বার্জাজ ডিজিজ(পায়ের পচন রোগ)সহ নানাবিধ কঠিন রোগ হয়ে থাকে। তামাকের মধ্যে থাকা বিষাক্ত অক্সিডেন্ট শরীরের বিভিন্ন জৈব অণুর(প্রোটিন, লিপিড, ডিএনএ) ক্ষতি(অক্সিডেটিভ ড্যামেজ) করছে।
- তামাক ব্যবহারের ফলে যেসব রোগ হয় তা হলো-ক্যান্সার (ব্ল¬াডার, মুখ গহ্বর, ল্যারিংস, ফুসফুস, ইউসোফেগাস, প্যানক্রিয়াস, রেনাল পেলভিস, পাকস্থলী এবং সারভিস), পেরিফেরাল ভাসকুলার রোগ, হৃদরোগ, স্ট্রোক, ক্রনিক অবসট্রাকটিভ ফুসফুসের রোগ, শ্বাসযন্ত্রের রোগ, পেপটিক আলসার ইত্যাদি।
- বিশ্বব্যাপী মোট ক্যান্সারের প্রায় ৫০ভাগের জন্য দায়ী ধূমপান ও তামাক সেবন এবং ৯৫% ফুসফুস ক্যান্সারের জন্য দায়ী ধূমপান। প্রাথমিক পর্যায়ে চিকিৎসা না করালে এ ক্যান্সার মানেই নিশ্চিত মৃত্যু।
- তামাক সেবনের ফলে মহিলাদের জরায়ুর ক্যান্সার, গর্ভবতীদের ক্ষেত্রে অকাল গর্ভপাত-কম ওজনের কিংবা মৃত শিশুর জন্ম ইত্যাদি সমস্যা দেখা দিতে পারে।
- এছাড়া পরোক্ষ ধূমপানের ফলে মহিলাদের উক্ত স্বাস্থ্য সমস্যা দেখা দেয়।
- শিশুদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম। পরোক্ষ ধূমপানের ফলে শিশুদের কানে পচা রোগ, চর্মরোগ, হাঁপানীর ঝুকি অনেকাংশে বেড়ে যায়।
- বিড়ি, সিগারেটের ধোঁয়াও মানুষের জন্য ক্ষতিকর। যা ধীরে ধীরে মানুষের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দেয়।
৩১ মে বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস ও আমাদের প্রত্যাশা
১৯৮৭ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ৩১ মে, বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস হিসাবে ঘোষণা করে। তারপর থেকে সারা পৃথিবীতে দিবসটি গুরুত্বসহকারে তামাক বিরোধী সচেতনতা সৃষ্টিতে সরকারী-বেসরকারি পর্যায়ে পালন হচ্চে। তামাকের ভয়াবহতা নিয়ন্ত্রণ করতে ২০০৩ সালে চুড়ান্ত হয় ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশন অন টোব্যাকো কন্ট্রোল (এফসিটিসি)। এটি হচ্ছে স্বাস্থ্যক্ষেত্রে প্রথম আন্তর্জাতিক চুক্তি, যে চুক্তিতে বাংলাদেশ প্রথম স্বাক্ষরকারী দেশ। বাংলাদেশ ২০০৪ সালে এটি র্যাটিফাই করে। এফসিটিসির কয়েকটি আর্টিকেল অনুসারে দেশে “ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন ২০০৫” প্রণয়ন করা হয়। আইনের কয়েকটি ধারার ব্যাখ্যাসহ ২০০৬ সালে বিধিমালা, ২০০৭ সালে আইন বাস্তবায়ন প্রক্রিয়াকে জোরালো করতে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ের প্রতিষ্ঠানকে সম্পৃক্ত করে জাতীয়-জেলা ও উপজেলা পর্যাযের টাস্কফোর্স কমিটি গঠন করা হয়।
এ বছর বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবসের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে এফসিটিসিকে কেন্দ্র করে। যে কারণে এফসিটিসির আলোকে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন উন্নয়ন করাটা আমাদের দায়িত্ব হয়ে পড়েছে। কারণ আমরা এ আন্তর্জাতিক চুক্তিটির প্রথম স্বাক্ষরকারী দেশ। বিগত ৬ বছরে তামাক নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষেত্রে ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি দুর্বলতা চিহ্ণিত হয়েছে।
বিদ্যমান আইনের সাদাপাতা, জর্দা, গুলসহ চর্বনযোগ্য তামাককে অন্তর্ভূক্ত করা হয়নি। যে কারণে চর্বনযোগ্য তামাক সেবনের হার বেড়ে গেছে। এসব তামাকও মানুষের মৃত্যুর জন্য দায়ী। তাই চর্বনযোগ্য তামাককে আইন ও করের আওতায় আনা জরুরি।
গবেষণায় দেখা গেছে, বাংলাদেশে দরিদ্র ও নিরক্ষর মানুষের মধ্যে তামাক সেবনের হার বেশি। তাই এসব নিরক্ষর মানুষকে তামাকের ক্ষতিকর বিষয়ে সচেতন করতে বিড়ি-সিগারেট-জর্দা-গুলসহ সব তামাককে মোড়কের আওতায় আনা এবং এসব মোড়কে ছবিসহ সতর্কবাণীর প্রচলন করতে হবে। এফসিটিসিতেও ছবিসহ সতর্কবাণীর পরামর্শ দেয়া হয়েছে। বর্তমানে পৃথিবীর ৪৩টি দেশে ছবিসহ সতর্কবাণী দেয়া হচ্ছে।
বিভিন্নভাবে আইন ভঙ্গ করলেও তামাক কোম্পানিগুলোকে শাস্তির আওতায় আনা হয়নি। তাছাড়া আইন ভঙ্গের জন্য তামাক কোম্পানির ক্ষেত্রে শাস্তির পরিমাণও খুব কম। তাই কোম্পানগুলোকে কঠোর শাস্তির আওতায় আনা ও জরিমানা লক্ষাধিক করতে হবে। কোন কোম্পানি একই অপরাধ দ্বিতীয়বার করলে শাস্তিও দ্বিগুণ হবে। তৃতীয়বার করলে শাস্তিও পর্যায়ক্রমে বাড়বে এবং চতুর্থবার অপরাধ করলে শাস্তিস্বরূপ কোম্পানির লাইসেন্স বাতিল করা যেতে পারে।
বিদ্যমান আইন বাস্তবায়ন খুব জটিল ও সময়সাপেক্ষ। স্বাস্থ্য কর্মকর্তা আইন বাস্তবায়নকারী কর্মকর্তা হলেও তার মোবাইল কোর্ট পরিচালনা ও জরিমানা বা শাস্তি প্রদানের কোন ক্ষমতা নাই। আইন বাস্তবায়নকারী কর্মকর্তার পরিধি বৃদ্ধি করতে হবে। পাশাপাশি আইন ভঙ্গের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষ বা যে কাউকে মামলা করার অধিকার প্রদান করতে হবে।
পাবলিক প্লেস ও পাবলিক পরিবহনগুলো শতভাগ ধূমপানমুক্ত করা এবং এগুলো ধূমপানমুক্ত করার জন্য স্ব স্ব পাবলিক প্লেস ও পাবলিক পরিবহনের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে ক্ষমতা প্রদান করতে হবে। পাবলিক প্লেস ও পাবলিক পরিবহনে ধূমপানমুক্ত সাইনবোর্ড স্থাপন বাধ্যতামূলক করাও দরকার।
খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ও পরিবেশ রক্ষায় খাদ্যের জমি এবং বর্তমানে তামাক চাষ হয় না এমন কৃষি জমিতে তামাক চাষ নিষিদ্ধ করতে হবে। তামাক পাতা চুল্লীতে আগুনের তাপে শুকানোর জন্য গাছ কাটা নিষিদ্ধ এবং এজন্য শাস্তির ব্যবস্থা করা দরকার। তামাক চাষীদের অন্যান্য ফসল উৎপাদনে উৎসাহিত করতে প্রয়োজনীয় নীতি প্রণয়ন করতে হবে। মোদ্দাকথা, বিদ্যমান আইনের দুর্বলতা চিহ্ণিত করে আইনকে কঠোর করতে হবে।
পাশাপাশি বিড়ি, সিগারেটসহ সকল প্রকার তামাকজাত দ্রব্যের মূল্য ও কর বৃদ্ধি করা এবং সকল প্রকার তামাককে করের আওতায় আনতে হবে। বিড়ি-সিগারেটসহ তামাকজাত দ্রব্যের উপর কর বৃদ্ধির একটি নীতিমালা প্রণয়ন করা, তামাকজাত দ্রব্যের উপর ৩% স্বাস্থ্যকর নির্ধারণ, যা তামাক নিয়ন্ত্রণ ও জনস্বাস্থ্য উন্নয়নে ব্যয় করা হবে। পরিবেশের উপর তামাক চাষের ক্ষতিকর দিক নিয়ন্ত্রণে কমপক্ষে ৪% পরিবেশ কর আরোপ করা, যা পরিবেশ বিপর্যয় রোধে ব্যয় করা হবে।
Subscribe to:
Posts (Atom)
.jpg)
.jpg)
.jpg)