Sunday, June 30, 2013

গোয়ালন্দে বিশ্ব তামাক মুক্ত দিবসে অবস্থান কর্মসূচী ও লিফলেট ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত।।



তামাকজাত দ্রব্যের বিজ্ঞাপন,প্রচারনা ও পৃষ্ঠপোষকতা নিষিদ্ধ আইন অমান্যে জরিমানা ১ লক্ষ টাকা এ প্রতিপাদ্য বিষয় নিয়ে ৩১মে বিশ্ব তামাক মুক্ত দিবস উপলক্ষ্যে  রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ঘাটে বেসরকারী সংস্থা একলাব ও ডাস্ বাংলাদেশ, তামাক বিরোধী জোট  যৌথ উদ্যোগে অবস্থান কর্মসূচী ও লিফলেট ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ উপলক্ষ্যে দৌলতদিয়া লঞ্চ ঘাটে সকাল ১০টা থেকে ১১টা এবং ১১টা থেকে ১২টা পর্যন্ত দৌলতদিয়া বাস টার্মিনালে অবস্থান কর্মসূচী ও লিফলেট ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত হয়। কর্মসূচীতে উপস্থিত ছিলেন ডাস্ বাংলাদেশের চেয়াম্যান অধ্যাপক আমিরুল ইসলাম লিন্টু, প্রকল্প পরিচালক হেলাল মাহমুদ, অধ্যাপক আওয়াল আনোয়ার, একলাব প্রতিনিধি, উপজেলা ওয়ার্কাস পাটীর সম্পাদক শুকুমার মন্ডল, শ্রমিক নেতা শাজাহান শেখ সহ স্থানীয় জনতা। কর্মসূচীর সংবাদ সংগ্রহের জন্য দৈনিক ইত্তেফাক, যুগান্তর ,কালের কন্ঠ,প্রথম আলো, ভোরের কাগজ, রাজবাড়ীকন্ঠসহ সহ স্থানীয় পত্রিকার স্থানীয় প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন এবং এ সংক্রান্ত সংবাদ দৈনিক ভোরের কাগজ, দৈনিক রাজবাড়ীকন্ঠ,সাপ্তাহিক অনুসন্ধান সহ স্থানীয পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।


Tuesday, May 28, 2013

Polling centres free from smoking: CEC

Polling centres free from smoking: CEC

Chief Election Commissioner (CEC) Kazi Rakibuddin Ahmed has said that all the polling centers of the country are free from smoking according to the rule of the Election Commission (EC). Smoking is completely prohibited in the areas of polling centers, he added. 
He told this to a delegation of Bangladesh Anti-Tobacco Alliance (BATA) when it met him at his office in the city on Monday. On behalf of BATA, secretary general of Pratyasha Madok Birodhi Songothon Helal Ahmed, Sagufta Sulatana of NATAB, Syeda Ananya Rahman and Syed Mahbubul Alam Tahin of WBB Trust were in the delegation.

Vice chancellor of Bangabandhu Sheikh Mujib Medical University (BSMMU) Dr Pran Gopal Datta, EC secretary Dr Md Sadik and joint secretary Jesmin Tuli were also present at the meeting.
The representatives of the delegation requested CEC to take initiative to prohibit smoking and the use of tobacco-produced goods during the election campaign. Mentioning the negative impacts of tobacco, they also requested to declare all the offices under the EC as 'smoking free'.

The CEC assured them to consider the recommendations. He emphasised the need for creating awareness through media campaign about the negative impacts of tobacco.
Dr Pran Gopal Datta said the tobacco-produced goods are used during the election campaign, which encourage the people to use it. Mentioning that chewing tobacco is one of the reasons behind the deadly disease 'cancer', he said that the use of tobacco during election campaign hampers the anti-tobacco activities.   



http://thenewnationbd.com/newsdetails.aspx?newsid=75236

Sunday, March 31, 2013

খুলনায় বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস পালিত



“তামাকজাত দ্রব্যের সকল প্রকার বিজ্ঞাপন,প্রচারণা ও পৃষ্ঠপোষকতা নিষিদ্ধ” প্রতিপাদ্য বিষয়ের আলোকে খুলনাতে বিভাগীয় পর্যায়ে ৩১ মে বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস পালিত হয়। খুলনা জেলা টাস্কফোর্স, এ্যাকশান ইন ডেভেলপমেন্ট-এইড, সিয়াম,টঋঅঞ, আলোর দিশারী,উইশ, সুবাস, তামাক বিরোধী জোট সহ বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন এর উদ্যোগে সকাল ১০.০০ টায় স্কুল হেলথ ক্লিনিক সম্মেলন কক্ষে এক আলোচনা সভা শেষে সকাল ১২.৩০ টায় এক বর্নাঢ্য শোভাযাত্রা শুরু হয়ে নগরীর প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

খুলনা সিটি রেড ক্রিসেন্ট সাধারণ সম্পাদক মল্লিক আবিদ কবীর এর সভাপতিত্বে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, সহকারী জেলা শিক্ষা অফিসার দীপক রঞ্জন বিশ্বাস, এইড এর প্রকল্প সমন্বয়কারী মোঃ দোয়া বখ্শ শেখ, টঋঅঞ এর পতিনিধিও আলোর দিশারী’র নির্বাহী পরিচালক মোঃ ফারুক হোসেন, স্বাগত বক্তব্য রাখেন এইড’র সহকারী প্রকল্প সমন্বয়কারী তৌহিদুর রহমান ডিটো।
এছাড়াও বক্তব্যে রাখেন সিয়াম’র সভাপতি আকবর আলী, ধ্রুব’র পরিচালক এম এ এইচ আযম, সুবাস বি এল কলেজের সভাপতি ইয়াছির আরাফাত মিঠু, খূলনা বিশ্ববিদ্যালয় এর সভাপতি নুরুল আলম, রেড ক্রিসেন্ট সিটি ইউনিটের উপ যুব প্রধান সুমা রাণী মন্ডল, বক্তারা  বলেন তামাকের আগ্রাসন থেকে জন স্বাস্থ্য  রক্ষার্থে সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে সচেতন করতে হবে। তামাক নিয়ন্ত্রন আইনের সংশোধনের মাধ্যমে তামাকজাত দ্রব্যের সকল প্রকার বিজ্ঞাপন,প্রচারণা ও পৃষ্ঠপোষকতা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। অতিথিগণ তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার নিয়ন্ত্রণের লক্ষে দ্রুত সংশোধিত আইনের বিধি প্রনয়নের এবং আসন্ন বাজেটে তামাকজাত দ্রব্য’র উপর কর বৃদ্ধি করার আহবান জানান। সাথে সাথে টাস্কফোর্স কমিটিকে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার মাধ্যমে আইনের বাস্তবায়নে আন্তরিক হওয়ার জন্য অনুরোধ করেন।

বিশ্ব তামাক মুক্ত দিবস কে সামনে রেখে এইড এর তামাক নিয়ন্ত্রণ প্রকল্পের উদ্যোগে খুলনা বিভাগের বিভিন্ন জেলায় ধূমপানমুক্ত প্রচারাভিযান পরিচালনা করা হয়। এছাড়াও খুলনা জেলার বিভিন্ন স্থানে লিফলেট ক্যাম্পেইন,স্টিকার ক্যাম্পেইন, পাবলিক প্লেসে ধূমপানমুক্ত সাইন বিতরণ, পোস্টার ক্যাম্পেইন,মোবাইল কোর্ট এর মধ্য দিয়ে সকল কর্মসূচি সম্পন্ন হয়। সমগ্র অনুষ্ঠানসমূহ সমন্বয় সাধন করেন তামাক বিরোধী জোটের নেতা শাহ-আরাফাত রাহিব,এইডের তামাক নিয়ন্ত্রন প্রকল্পের কর্মকর্তা তৌহিদ-উদ-দৌলা রেজা,সিয়ামের নির্বাহী পরিচালক মোঃ মাছুম বিল্লাহ।

Sunday, February 24, 2013

কৃষি জমিতে তামাক চাষ বন্ধে আইন হোক

দেশে খাদ্যের উৎপাদন বৃদ্ধি করতে হবে, এই বক্তব্যের সাথে একমত পোষণ করবে না এমন মানুষ পাওয়া দুষ্কর। কিন্ত চিন্তা আর কাজের পার্থক্যের ব্যাপকতার  বিষয়টি এক্ষেত্রেও বিদ্যমান। আর তাই দিন দিন কমে আসছে আমাদের কৃষি জমি যা দেশের খাদ্য সংকটকে প্রকট করবে। শিল্পায়ন, বাসস্থান তৈরি, নদীভাঙনের পাশাপাশি তামাক চাষের মতো ক্ষতিকর পণ্যের উৎপাদন বৃদ্ধি দেশের কৃষি জমিকে ধ্বংস করছে। দেশের অনেক অঞ্চল যেসব জমিতে খাদ্য উৎপাদন হতো, তা এখন দখল করে নিয়েছে তামাক চাষ।

বাংলাদেশে আবাদী জমির পরিমান খুবই সীমিত। তথাপি সড়ক নির্মাণ, শিল্পস্থাপন, ঘরবাড়ি নির্মাণ, নদী ভাঙনসহ বিভিন্ন কারণে প্রতিবছর দেশে কৃষি জমি ১ শতাংশ হারে হ্রাস পাচ্ছে। ১৯৭১ সালে আবাদী জমির পরিমাণ ২ কোটি ১৭ হেক্টর ছিল । ১৯৮৬ সালে কমে দাঁড়ায় ৮১ লাখ ৫৮ হাজার হেক্টর এবং ২০০৩ সালে কমে দাঁড়ায় ৭০ লাখ ৮৭ হাজার হেক্টরে। আর এ অবস্থার মধ্যে বিগত কয়েক বছরে বাংলাদেশে তামাক চাষ ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। তামাক চাষ নিয়ন্ত্রণের দুর্বল নীতি বা অবস্থান দেশের কৃষি জমি ধ্বংস, খাদ্য সংকট, পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য সমস্যার মতো বিষয়গুলোকে প্রকট করে তুলবে।

ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ আইন ২০০৫ এ তামাক চাষ নিয়ন্ত্রণে নীতিমালা প্রণয়ন এবং চাষীদের বিকল্প ফসল উৎপাদনে আর্থিক সহযোগিতার বিধান ছিল। ২০১০ সালে বিকল্প ফসল উৎপাদনে ঋণ সহায়তা দেয়ার মেয়াদ শেষ হয়েছে। কিন্তু বিগত সময়ে এই নীতি ও বিধান বাস্তবায়নে কোনো ধরনের উদ্যোগ পরিলক্ষিত হয়নি। ধূমপান ও তামাকের নেশা থেকে নিজেদের সন্তান আর পরিবারকে রক্ষা করার ইচ্ছে আমাদের সকলেরই আছে। অথচ তামাক চাষ, উৎপাদন নিয়ন্ত্রণের কোনো নীতি বা সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা রয়েই যাচ্ছে।

ভয়েজ অব ডিসকভারি সংক্রান্ত এক রিট মামলার রায়ে হাইকোর্ট তামাক নিয়ন্ত্রণে নির্দেশনা প্রদান করেন। পরবর্তী সময়ে বান্দরবান জেলা জজ কোর্টের একটি রায়ে ওই এলাকায় তামাক চাষ ১০০০ একরের মাঝে সীমাবদ্ধ রাখার নির্দেশনা প্রদান করেন। আদালতের এই সিদ্ধান্ত বিশ্বে তামাক চাষ নিয়ন্ত্রণে উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত। যদিও ওই দুটি মামলার রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করা হয়।

তামাক কোম্পানিগুলোর প্ররোচনায় তামাক চাষ আগ্রাসীভাবে বিভিন্ন খাদ্য ভাণ্ডারের জমি দখল করে নিচ্ছে। উবিনীগের তথ্যানুসারে, বর্তমানে বাংলাদেশে প্রায় ৭৪ হাজার হেক্টর জমিতে তামাক হচ্ছে। বিগত ২ বছরে তামাক চাষ প্রায় ৬৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। উত্তরাঞ্চলের খাদ্যভাণ্ডার বলে পরিচিত চলনবিল এখন দখল করে নিচ্ছে তামাক চাষ। পাবর্ত্য এলাকায় এ বিষের ছোয়া রন্ধ্র্রে রন্ধ্রে।  তামাক চাষ শুধুমাত্র খাদ্য নিরাপত্তার জন্য হুমকি নয় এই বিষবৃক্ষ চাষ, উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং বিপণন সব ক্ষেত্রে মানুষকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।

গ্রামীণ কৃষক সমাজের দরিদ্রতাকে পুঁজি করে তামাক চাষ ভয়াবহভাবে বিস্তার লাভ করেছে। তামাক চাষ লাভজনক এ ধরনের ভ্রান্ত বাহারী বিজ্ঞাপন তামাক চাষে ধাবিত করার চক্রান্তের আড়ালে তামাক চাষের সমস্যাগুলো হারিয়ে যায়। প্রতিবছর তামাক কোম্পানির কাছ থেকে ঋণ নিয়ে তামাক চাষ করতে হয়। তামাক যদি লাভজনক হয় তবে চাষী কেন প্রতিবছর ঋণ নেবেন? এই প্রশ্নটি কেউই করে না। একজন চাষীর জন্য জমি মূল্যবান সম্পদ। কিন্ত প্রতিবছর প্রচুর রাসায়নিক ও কীটনাশক ব্যবহারে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে জমির উর্বরতা।  রাসায়নিক ও কীটনাশকের প্রভাবে জনস্বাস্থ্য, বনভূমি, পানি, জলজ প্রাণী, পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

সম্প্রতি সরকার তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। সংশোধিত আইনে পাবলিক প্লেস ও পরিবহনে ধূমপান নিষিদ্ধ, তামাকজাত দ্রব্যের বিজ্ঞাপন নিষিদ্ধ, প্যাকেটে সচিত্র স্বাস্থ্য সতর্কবাণী প্রদানের বিষয়ে আরো কঠোর বিধান করা হয়েছে। এ আইনে খাদ্যের জমিতে তামাক চাষ নিয়ন্ত্রণে কঠোর বিধান বিধানযুক্ত হবে, এ আমাদের প্রত্যাশা।


লেখক: সৈয়দ সাইফুল আলম, পরিবেশ আন্দোলন কর্মী
shovan1209@gmail.com
http://www.banglamail24.com/index.php?ref=ZGV0YWlscy0yMDEzXzAyXzI0LTc0LTI0OTIw

Monday, January 14, 2013

Jatya Party Supports Tobacco Control Law Amendment

Smoking and tobacco use kills people; generates adverse impact on public health and economy. Jatya Party Chief and former President Hussain Muhammad Ershad expressed JP support to law amendment for death reduction and enhancement of public health.

At 1.00 PM former President Hussain Muhammad Ershad told Bangladesh Anti-Tobacco Alliance (BATA) team “We have strong support to law amendment in order to improve public health”. He also assures supporting law amendment in ensuing session of National Assembly.

Bangladesh Anti-Tobacco Alliance (BATA) team said that chewable tobacco is not included in the existing law for which it is not possible to control these products. In addition, the written messages are not viable for the illiterate. So, pictorial health warning needs to be given on packs of tobacco products. Jatya Party Chief and former President Hussain Muhammad Ershad was intently requested for his support to include these issues through law amendment. It is to mention that Jataya Party is one of the major members of the Mohajote government.

There is no confusion that tobacco harms public health, environment and economy. Bangladesh Anti-Tobacco Alliance (BATA) recommended law amendment for inclusion of all kinds of tobacco products in the law, extension of scope of authorized officer for law implementation, giving pictorial health warning on tobacco packs and stopping direct and indirect advertisements of tobacco products.  The recommendation was made while meeting Jatya Party Chief and former President Hussain Muhammad Ershad as part of the activities for creating support of Parliament Members for law amendment.

The Bangladesh Anti-Tobacco Alliance (BATA) team was composed of Ibnul Sayed Rana, Executive Director of Nirapad Development Foundation (NDF), and Gaus Piaree Mukti, Director (Admin), Sayeda Anonna Rahman, National Advocacy Officer as well as Media Advocacy Officer Syed Saiful Alam of WBB Trust.
It needs to mention that, Jatiya Party (JP) is 3rd populated political party in Bangladesh led by former Prisident of Bangladesh, Hussain Muhammad Ershad. JP also 3rd major political party at the current parliament and second biggest party of current 14 party coalition government. 

Tuesday, January 8, 2013

ফসলি জমিতে তামাক চাষ নয়

ফসলি জমিতে তামাক চাষ নয় 


দেশের খাদ্য উৎপাদন ব্যাহত করে ৭৪ হাজার হেক্টর জমিতে তামাক চাষ হচ্ছে। অবিলম্বে সরকারকে খাদ্যের জমিতে তামাক চাষ বন্ধে কার্যকরী পদক্ষেপ নিতে হবে।

বুধবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে বেসরকারী সংস্থা  উন্নয়ন বিকল্পের নীতি নির্ধারনী গবেষণা (উবিনীগ) ও ডব্লিউবিবি ট্রাস্ট আয়োজিত ‌‌'তামাক চাষ ও বিঁড়ি কারখানায় নিয়োজিত জনগোষ্ঠীর বিকল্প কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা ও করনীয়" শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা এ দাবী করেন। উবিনীগ'র নির্বাহী পরিচালক ফরিদা আখতার সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন।

ফরিদা আখতার বলেন, তামাক সেবন ও তামাক চাষ স্বাস্থ্য এবং পরিবেশের জন্য ক্ষতিকারক হওয়া সত্ত্বেও দেশের বিস্তৃর্ন এলাকা জুড়ে তামাক চাষ হচ্ছে। ফসলি জমিতে এই তামাক চাষ অবিলম্বে বন্ধের পদক্ষেপ নিতে হবে। তিনি বলেন, তামাক উৎপাদন বন্ধ হলে ২৫ লাখ মানুষ বেকার হয়ে যাবে বলে তামাক উৎপাদনকারী দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলো মিথ্যা প্রচার চালিয়ে যাচ্ছে। অথচ দেশে মাত্র দুই লাখ মানুষ তামাক উৎপাদনের সঙ্গে জড়িত।

তিনি আরো বলেন, সরকারের উচিত তামাকজাত পন্যের উপর বাড়তি কর আরোপ করে এই করের টাকায় দুই লাখ তামাক শ্রমিকের বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা।সেমিনারে মূল আলোচক ছিলেন, ডব্লিউবিবি ট্রাস্টের পরিচালক সৈয়দ মাহবুবুল আলম। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর উপ-মহাপরিচালক এ কে এম মিজানুর রহমান, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা'র টেকনিক্যাল অফিসার ডা. মাহফুজুল হক, পবিবেশ বাঁচাও আন্দোলনের (পবা) চেয়ারম্যান আবু নাসের খান প্রমুখ।

Monday, November 12, 2012

দেশে অগ্নিকাণ্ডের অন্যতম কারণ হচ্ছে ধূমপান

দেশে অগ্নিকাণ্ডের অন্যতম কারণ হচ্ছে ধূমপান
 














ঢাকা, ২২ নভেম্বর, ২০১২ (বাসস) : দেশে প্রতি বছর প্রায় এক হাজার ৮শ’ অগ্নিকাণ্ডের অন্যতম কারণ হচ্ছে ধূমপান। অর্থাৎ ধূমপানের সময় বিড়ি ও সিগারেটের শেষাংশ থেকে বিপুল সংখ্যক অগ্নিকাণ্ড ঘটে থাকে। এজন্য বাজার, শপিং মলসহ সব জনসমাগম স্থল ধূমপানমুক্ত রাখা সম্ভব হলে ধূমপানজনিত অগ্নিকাণ্ড প্রতিরোধ অনেকাংশে সম্ভব। 

আজ সকালে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদফতর মিলনায়তনে ‘তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন বাস্তবায়নে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের করণীয়’ বিষয়ক এক সেমিনারে এ তথ্য জানান ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদফতরের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবু নাঈম মো. শাহিদউল্লাহ।

বাংলাদেশ তামাকবিরোধী জোট, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স এবং ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ (ডব্লিউবিবি ট্রাস্ট)-এর যৌথ উদ্যোগে অনুষ্ঠিত এ সেমিনারে সম্মানিত অতিথি হিসাবে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় ও হাসপাতালের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. প্রাণ গোপাল দত্ত। 

ডব্লিউবিবি ট্রাস্টের প্রকল্প সমন্বয়কারী আমিনুল ইসলাম সুজন। এতে বক্তৃতা করেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ন্যাশনাল প্রফেশনাল অফিসার ডা. মোস্তফা জামান এবং চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সাবেক সভাপতি আহমেদ শরীফ প্রমুখ।
প্রত্যাশা মাদকবিরোধী সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক হেলাল আহমেদের সভাপতিত্বে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ডব্লিউবিবি ট্রাস্টের পরিচালক এডভোকেট সৈয়দ মাহবুবুল আলম।

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবু নাঈম মো. শাহিদউল্লাহ বলেন, ধূমপান অগ্নিকাণ্ডের অন্যতম প্রধান কারণ। ১২ ভাগ অগ্নিকাণ্ডের জন্য দায়ী ধূমপান। তই প্রতিষ্ঠা কাল থেকেই ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স ধূমপানকে নিরুৎসাহ যুগিয়ে আসছে। সারাদেশে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ২৫৪টি ফায়ার স্টেশন ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র রয়েছে। আজ থেকে এসব প্রতিষ্ঠানে কেউ ধূমপান করতে পারবে না। এছাড়া এসব প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে স্ব-স্ব এলাকায় প্রতি মাসে কমপক্ষে ৪টি জনসংযোগ করা হয়। এসব জনসংযোগ কর্মসূচিতে ধূমপান ও তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনকে যুক্ত করা হবে।

অধ্যাপক ডা. প্রাণ গোপাল দত্ত বলেন, পরোক্ষ ধূমপানের কারণে শিশু ও নারীদের ক্যান্সার, স্ট্রোক, হৃদরোগসহ নানা রকম রোগের প্রকোপ বেড়ে যায়। এজন্য উন্নত দেশগুলো পরোক্ষ ধূমপান থেকে শিশু-নারীদের রক্ষায় সব পাবলিক প্লেস ও পাবলিক পরিবহন শতভাগ ধূমপানমুক্ত করেছে। আমাদেরও সব প্রতিষ্ঠান শতভাগ ধূমপানমুক্ত করতে হবে।
গবেষণার তথ্য উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন, দীর্ঘস্থায়ী ধূমপান মানুষের গড় আয়ু ১০ বছর কমিয়ে দেয়। শুধু তাই নয়, ধূমপায়ীদের মৃত্যু হয়েছে নানা রকম ভয়াবহ অসুখে, দীর্ঘদিন রোগে ভুগে। সুস্থতা ও দীর্ঘায়ুর জন্য ধূমপান বর্জন করা উচিত। পাশাপাশি তামাক কোম্পানিগুলোর সব রকম প্রচারণা নিষিদ্ধ করার দাবি জানান।

ডা. মোস্তফা জামান ২০০৪ সালের গবেষণার তথ্য উল্লেখ করে বলেন, ধূমপানসহ তামাজজনিত কারণে বাংলাদেশে প্রতি বছর ৫৭ হাজার মানুষ মারা যায়। ধূমপান মানুষের আয়ু ক্রমশ: কমিয়ে ফেলে। তাই ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স এর অধূমপায়ী কর্মীদের স্বাস্থ্য রক্ষায় প্রতিষ্ঠানের সব কার্যালয় ধূমপানমুক্ত করা দরকার।
চলচ্চিত্রাভিনেতা আহমদ শরীফ ব্যক্তি জীবনের উদাহরণ দিয়ে বলেন, আমি গত ২২ বছর ধূমপান করি না। ধূমপান বন্ধ করায় আমার শারীরিক ও মানসিক মনোবল বৃদ্ধি পেয়েছে।

এডভোকেট সৈয়দ মাহবুবুল আলম বলেন, ধূমপায়ীর ধূমপানের ফলে অধূমপায়ীর অধিকার ক্ষুণœ হয়। বাংলাদেশ প্রায় এক কোটি নারী পাবলিক প্লেস ও পরিবহনে পরোক্ষ ধূমপানের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।